
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফেরাকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, ঐক্য, রাজনৈতিক কৌশল এবং বাস্তব কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রে তারেক রহমান কী ধরনের ভূমিকা নেন—সে বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে জামায়াত।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, একজন রাজনৈতিক সহকর্মীর দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে উপস্থিত হওয়া বর্তমান বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। তার মতে, রাজনীতির মাঠে সরাসরি ফিরে আসা মানেই হলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, ঐক্য গঠনের উদ্যোগ এবং কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো সামনে চলে আসা।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোবেন, ঐক্য গড়তে কী ভূমিকা রাখতে চান, এবং সবচেয়ে বড় কথা—সেই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন—এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বক্তব্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক পদক্ষেপ, বাস্তব উদ্যোগ এবং কর্মপ্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত ভূমিকার মূল্যায়নে নির্ধারক হবে।
এদিকে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, রাজনীতিতে কোনো নেতার অবস্থান কেবল উপস্থিতি দিয়ে নয়, বরং তার ভূমিকা, সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন—তার ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ভবিষ্যতে কী ধরনের ভূমিকা রাখেন, সেটির ওপরই জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান ও প্রভাব কতটা প্রতিষ্ঠিত হবে—তা নির্ভর করবে।
জামায়াত নেতাদের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তারা তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে একদিকে রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে তারা এটিকে ‘পর্যবেক্ষণের বিষয়’ হিসেবেও বিবেচনা করছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে অংশগ্রহণ, এবং জনসমর্থন ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তারেক রহমান কী পদক্ষেপ নেন—তার ভিত্তিতেই জামায়াত তাদের মূল্যায়ন গড়ে তুলতে চাইছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা—তারেক রহমান দেশে ফিরে কী ধরনের বার্তা নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন এবং সেই বার্তার বাস্তব প্রতিফলন কীভাবে ঘটবে। জামায়াতের বক্তব্যেও একই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ভূমিকা ও কর্মপন্থা দেখেই পরবর্তী রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে অবস্থান নির্ধারণে আগ্রহী হবে।