
পূর্বাচলে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ এলাকায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঞ্চে উঠে তিনি প্রথমে শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন—“প্রিয় বাংলাদেশ।” এরপর তিনি জানান, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে একটি নিরাপদ দেশ নির্মাণের সময় এসেছে।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি মুরুব্বি, নেতৃবৃন্দ, উপস্থিত জনতা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান দেখা দর্শকদের সালাম জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা ও মানুষের দোয়ার কারণে তিনি আবার মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরেছেন এবং এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে পাহাড়ি ও সমতলের মানুষ যেমন রয়েছে, তেমনি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ নানা ধর্মের মানুষও বাস করে। এই বৈচিত্র্যকে সঙ্গে নিয়েই সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে একজন মা—নিরাপত্তা ও স্বস্তির আশায় দেখে থাকেন।
দেশের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এরপর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে নানা ষড়যন্ত্র চললেও জনগণ বারবার নিজেদের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্রিয় ছিল।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারীসহ আরও অনেকে ছিলেন।