
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির তৈরি করা ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, গত কয়েক দশকে বিভিন্ন সরকারের অপশাসনের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, এমনকি রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রায় প্রতিটি খাত ভেঙে পড়েছে। এর ফলে শুধু বর্তমানই নয়, আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎও বিপন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সভায় ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্গঠনের জন্য বিএনপির হাতে থাকা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেন।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে দেশের সরকারি অঙ্গগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। এর ফলে বিচারব্যবস্থা-মুক্ত প্রশাসন, নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কার্যকর শাসনব্যবস্থা কোনোটাই টেকসইভাবে গড়ে উঠতে পারেনি।
তিনি জানান, এসব অব্যবস্থা থেকে উত্তরণেই বিএনপি “দেশ গড়ার পরিকল্পনা” নামে একটি পুনর্গঠনমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি আধুনিক ও দক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে নেওয়া খাল খনন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন—
খাল খননের মাধ্যমে শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণই হয়নি; দেশের সেচ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটে। যে জমিতে আগে একটি ফসল হতো, সেখানে দুটি পর্যন্ত ফসল হতো শুধুমাত্র পানি সরবরাহের উন্নতির কারণে।
এর ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং সীমিত পরিমাণ হলেও বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।
তারেক রহমান ঘোষণা দেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খাল খনন প্রকল্পকে আধুনিক কাঠামোয় পুনরায় শুরু করা হবে।
প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়েও বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন—
বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বিদেশে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। এদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত।
জিয়াউর রহমানের সময়ই জনশক্তি রপ্তানির পথ উন্মুক্ত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদেশে পাঠানো অদক্ষ শ্রমিকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন,
“যদি ভাষা প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় স্কিল দেওয়া যায়, তাহলে যারা ১০০ ডলার আয় করছে, তারা ৩০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। এতে রেমিট্যান্স তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।”
ডিজিটাল অর্থনীতিকে সামনে রেখে তারেক রহমান জানান—
পেপালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তারা সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের কাজ প্রকাশ করতে পারবে এবং দেশের ডিজিটাল আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তিনি বলেন,
“অনেক তরুণ ভালো কন্টেন্ট তৈরি করে কিন্তু সঠিক প্ল্যাটফর্মে দিতে না পারায় তাদের আয় কম থাকে। রাষ্ট্রীয় নীতিমালা তৈরি করলে তাদের ভবিষ্যৎ বদলে যাবে।”
ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর ভয়াবহ বায়ুদূষণ রোধে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
একই সঙ্গে দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত একটি জাতীয় পরিকল্পনা চালুর কথা বলেন।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, কারণ শিক্ষকদের মান উন্নত হলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হবে।