হালিশহরে পুলিশ-সাংবাদিক পরিচয়ে বাসায় প্রবেশ, ভিডিও ধারণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ: ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে একটি বাসায় প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো, পরিবারের নারী সদস্যদের ভিডিও ধারণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচ ব্যক্তি হালিশহরের শ্যামলী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বাসার লোকজন তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা বাসায় ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলছে—এমন দাবি করে বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে বাসায় থাকা ৫৫ বছর বয়সী এক নারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূর ভিডিও ধারণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি ও বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বাসায় ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ সময় সাখাওয়াত হোসেন (৪০) ও মো. মাইনউদ্দিন (৪৬) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
মামলার সূত্রে পাঁচ আসামি হলেন— ১. সাখাওয়াত হোসেন (৪০) ২. মো. মাইনউদ্দিন (৪৬) ৩. মো. জাহিদ (৩০)
৪. মো. মোস্তাফিজ (৩৬) ৫. বাবুল (৩৬)
মামলার সূত্র অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে BANGLA 360 VISION LTD. একটি জরুরি অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে মোঃ মাইনুদ্দিন ও সাকিবের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হালিশহরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের নাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের ও আইনগত কার্যক্রমের তথ্য প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি, পেশাগত নৈতিকতা, সাংবাদিকতার দায়িত্বশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নামের অপব্যবহার রোধের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানের সকল দায়িত্ব, প্রতিনিধিত্ব ও অফিসিয়াল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে।
BANGLA 360 VISION LTD. জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় প্রতিষ্ঠান বহন করবে না। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, নির্দেশনা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কেউ ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠানের নাম, পরিচয়পত্র, পদবি, লোগো বা গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। কোনো কর্মকর্তা, পরিচালক, কর্মী বা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হলে প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতিমালা ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে না। সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের পরিচয় কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে আইনবহির্ভূত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
BANGLA 360 VISION LTD. জানিয়েছে, তারা দায়িত্বশীল, নীতিনিষ্ঠ ও পেশাদার গণমাধ্যম কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।